হুক: সবজি থেকে ফ্রি স্পিড
বেশি দ্রুত টাইম‑ট্রায়াল চাওয়া সাইক্লিস্টরা সাধারণত এয়ারোডাইনামিক চাকা, টাইট পোজিশন অথবা কঠোর ট্রেনিংকে লক্ষ্য করে। Medicine & Science in Sports & Exercise‑এ ২০১১ সালে Lansley এবং সহকর্মীরা একটি সহজ প্রশ্ন তুলেছেন: রেসের কয়েক ঘন্টা আগে এক গ্লাস বিটরুট জুস সেবন করলে রাইডাররা বাস্তব রেস দূরত্বে দ্রুত হতে পারে কি না?
নয়জন পুরুষ ক্লাব‑লেভেল সাইক্লিস্টের জন্য উত্তর ছিল হ্যাঁ। প্রায় ২.৫ ঘণ্টা আগে ০.৫ লিটার নাইট্রেট‑সমৃদ্ধ বিটরুট জুস সেবনের ফলে ৪ কিমি টাইম‑ট্রায়ালের পারফরম্যান্স ২.৮ % এবং ১৬.১ কিমি পারফরম্যান্স ২.৭ % উন্নত হয়েছে। রাইডাররা আরো বেশি শক্তি উৎপাদন করলেও অক্সিজেন গ্রহণে কোনো পরিমাপযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়নি। এই উন্নতি ছোট হলেও সেকেন্ডে নির্ধারিত প্রতিযোগিতার জগতে তা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রোটোকল: নাইট্রেট‑সমৃদ্ধ জুস বনাম ডিপ্লিটেড প্লাসেবো
অধিকাংশ গবেষণার মতো, এই গবেষণাটিও র্যান্ডমাইজড, ক্রস‑ওভার ডিজাইন ব্যবহার করেছে। ফ্যামিলিয়ারাইজেশন পর্যায়ের পর, নয়জন ক্লাব‑লেভেল পুরুষ সাইক্লিস্ট দুইটি শর্তে ট্রায়াল সম্পন্ন করলেন। একদিকে, তারা ০.৫ লিটার বিটরুট জুস পেয়েছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ৬.২ mmol নাইট্রেট ছিল। অন্যদিকে, তারা একই পরিমাণ ডিপ্লিটেড (নাইট্রেট‑হ্রাসকৃত) বিটরুট জুস পান করলেন, যাতে মাত্র ০.০০৪৭ mmol নাইট্রেট ছিল।
প্লাসেবো ডিজাইনের গুরুত্ব এখানে প্রকাশ পেল। উভয় শর্তেই রঙ, স্বাদ ও ঘ্রাণ একের মতো ছিল, তবে সক্রিয় উপাদান—নাইট্রেট—প্রায় সম্পূর্ণই সরানো হয়েছিল। ফলে নাইট্রেটের শারীরবৈজ্ঞানিক প্রভাবকে অন্যান্য বিটরুট উপাদান বা প্লাসেবোর মানসিক প্রত্যাশা থেকে আলাদা করে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে।
উভয় শর্তেই পানীয়টি রাইডাররা ৪ কিমি ও ১৬.১ কিমি টাইম‑ট্রায়াল শুরু করার প্রায় ২.৫ ঘণ্টা আগে সেবন করলেন। প্রতিটি রাইডার নিজেই কন্ট্রোল হিসেবে কাজ করায়, ব্যক্তিগত ফিটনেস পার্থক্য থেকে সৃষ্ট নয়েজ কমে যায়—যা ছোট নমুনা আকারে বিশেষ সুবিধা।
সংখ্যা: প্লাজমা নাইট্রেট, শক্তি ও সময়
বায়োকেমিক্যাল ফলাফল দেখিয়েছে সাপ্লিমেন্টটি সত্যিই কাজ করেছে। বিটরুট জুসের পর প্লাজমা নাইট্রেটের ঘনত্ব দ্বিগুণের বেশী বৃদ্ধি পেয়েছিল: ৫৭৫ ± ১৯৯ nM বনাম প্লাসেবোতে ২৪১ ± ১২৫ nM (P < 0.05)। নাইট্রেট হল নাইট্রাইটের প্রিকরসার, যা নাইট্রিক অক্সাইডের পূর্বধাপ—একটি অণু যা রক্তপ্রবাহ ও মাইটোকন্ড্রিয়াল কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
পারফরম্যান্সের ফলাফল:
- ৪ কিমি টাইম‑ট্রায়াল: গড় শক্তি ২৭৯ ± ৫১ W থেকে ২৯২ ± ৪৪ W‑এ বেড়েছে। শেষ করার সময় ৬.৪৫ ± ০.৪২ মিনিট থেকে ৬.২৭ ± ০.৩৫ মিনিটে নেমে এসে ২.৮ % উন্নতি দেখা গেছে (P < 0.05)।
- ১৬.১ কিমি টাইম‑ট্রায়াল: গড় শক্তি ২৩৩ ± ৪৩ W থেকে ২৪৭ ± ৪৪ W‑এ বাড়ে। শেষ সময় ২৭.৭ ± ২.১ মিনিট থেকে ২৬.৯ ± ১.৮ মিনিটে নেমে এসে ২.৭ % (P < 0.01) উন্নতি ঘটেছে।
সর্বোচ্চ শারীরবৈজ্ঞানিক গুরুত্ব হল, একই সময়ে VO₂‑এর পার্থক্য উল্লেখযোগ্য নয়। অর্থাৎ রাইডাররা একই অক্সিজেন গ্রহণে বেশি শক্তি উৎপাদন করেছে। লেখকগণ এটিকে "সাইক্লিং অর্থনীতি"‑এর উন্নতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন; অর্থাৎ প্রতি ওয়াটের কাজের জন্য অক্সিজেনের খরচ কমে গেছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: বড় ইঞ্জিন নয়, অর্থনীতি
পূর্বের গবেষণায় দেখা গেছে ডায়েটারি নাইট্রেট সাবম্যাক্সিমাল এক্সারসাইজের অক্সিজেন খরচ কমিয়ে দেয় এবং উচ্চ‑তীব্রতার কাজের টলারেন্স বাড়ায়। তবে ল্যাব‑ভিত্তিক এই প্রভাবগুলো বাস্তব রেসে একই ফল দেবে কি না তা অজানা ছিল। এই গবেষণা স্ব‑পেসড টাইম‑ট্রায়াল ব্যবহার করে সেই ফাঁক পূরণ করেছে, যা টোর্সন‑টু‑এক্সহস্টশন টেস্টের তুলনায় প্রতিযোগিতার কাছাকাছি শর্ত তৈরি করে।
VO₂ একই থাকা সত্ত্বেও শক্তি বাড়া দেখায় নাইট্রেট অ্যারোবিক সিস্টেমের সিলিং বাড়ায় না; বরং শক্তি ব্যবহারকে আরও দক্ষ করে। অ্যাথলিটদের জন্য এটা আকর্ষণীয় কারণ একই আউটপুটে কম খরচের অর্থ, শুধু হার বাড়িয়ে নয়।
ব্যবহারিক টেক‑অ্যাওয়ে
এই পেপার থেকে কয়েকটি ব্যবহারিক পয়েন্ট বের করা যায়:
- টাইমিং: জুসটি টেস্টের প্রায় ২.৫ ঘণ্টা আগে সেবন করতে হবে, যাতে প্লাজমা নাইট্রেটের শীর্ষ মান টেস্টের সময় দেখা যায়। তাই রেসের লাইনেই নয়, শুরুতে আগেই পরিকল্পনা করা দরকার।
- ডোজ: পরীক্ষায় ব্যবহৃত ডোজ ছিল প্রায় ৬.২ mmol নাইট্রেট সম্বলিত ০.৫ লিটার জুস। বাজারের পণ্যের নাইট্রেট পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে; লেবেল বা ল্যাব টেস্টের ভিত্তিতে ডোজ নির্ধারণ করুন, শুধু ভলিউম নয়।
- প্রথমে পরীক্ষা করুন: গবেষণায় ফ্যামিলিয়ারাইজেশন ফেজ অন্তর্ভুক্ত ছিল, তাই খেলোয়াড়দেরও প্রশিক্ষণে এই প্রোটোকলটি আগে পরীক্ষা করে দেখা উচিত। অর্ধ লিটার তরল ২.৫ ঘণ্টা আগে পান করা বেশিরভাগের জন্য সম্ভব, তবে গ্যাস্ট্রিক টলারেন্স ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
- বাস্তবিক প্রত্যাশা: প্রায় ৩ % উন্নতি সকলের জন্য গ্যারান্টি নয়; ডেটার স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন দেখায় ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া বড় পার্থক্য দেখাতে পারে।
সীমাবদ্ধতা
গবেষণার বেশ কিছু স্পষ্ট সীমা রয়েছে। মাত্র নয়জন রাইডার অংশগ্রহণ করে, ফলে স্ট্যাটিস্টিকাল পাওয়ার সীমিত এবং ফলাফল বৃহত্তর জনগোষ্ঠীতে একই রকম নাও হতে পারে। সব অংশগ্রহণকারীই ক্লাব‑লেভেল পুরুষ সাইক্লিস্ট, তাই এই ফলাফলকে নারী, প্রফেশনাল বা রিক্রিয়েশনাল অ্যাথলিটদের উপর প্রয়োগ করা উচিত নয়। অন্য গবেষণায় দেখা যায় উচ্চ প্রশিক্ষিত অ্যাথলিটদের রেসপন্স ভিন্ন হতে পারে, তবে সেটা এই পেপারের পরিধির বাইরে।
প্রোটোকলটি একক ডোজের উপর ভিত্তি করে—প্রতি টেস্টের আগে একবারই জুস সেবন করা হয়েছে। তাই দিনের পর দিন বা সপ্তাহে ডোজ দিলে কী হয় তা জানি না। শেষমেশ, পারফরম্যান্স টেস্টটি কেবল ৪ কিমি ও ১৬.১ কিমি দূরত্বে সীমাবদ্ধ, তাই মাল্টি‑আওয়ার রোড রেসের মতো দীর্ঘ ইভেন্টে একই প্রভাব থাকবে এমন দাবি করা যায় না।
সারসংক্ষেপ
এই র্যান্ডমাইজড ক্রস‑ওভার ট্রায়ালে, প্রায় ২.৫ ঘণ্টা আগে ০.৫ লিটার নাইট্রেট‑সমৃদ্ধ বিটরুট জুস সেবন করলে প্লাজমা নাইট্রেট বৃদ্ধি পায়, গড় শক্তি বাড়ে এবং গড়ে ২.৭‑২.৮ % টাইম‑ট্রায়ালের পারফরম্যান্স উন্নতি হয়, যদিও VO₂‑এ কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায় না। এটি একটি কম‑খরচের, সম্ভাব্য ফায়দাযোগ্য পদ্ধতি, তবে এখনো নমুনা আকার ও একক‑ডোজ ডিজাইনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।