প্রস্তাবনা: বড় একটি ট্রায়াল, তবে বেশিরভাগ ফল শূন্য
কার্নোসিন ক্যাপসুলগুলোকে পেশীর সহনশীলতা বাড়ানোর সাপ্লিমেন্ট হিসেবে বাজারজাত করা হয়। ২৯৯ জনের ওপর করা একটি র্যান্ডমাইজড, প্লেসবো‑কন্ট্রোলড ট্রায়াল এই দাবিটিকে পরীক্ষা করেছে এবং বেশিরভাগ ফল শূন্যই পেয়েছে। দুটি সাব‑গ্রুপে সামান্য সংকেত দেখা গিয়েছে, তবে সেগুলোকে অতিরঞ্জন না করা জরুরি।
এই গবেষণাটি Journal of the International Society of Sports Nutrition‑এ প্রকাশিত হয়েছে এবং লুইসভিল ও বেলারমাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের দল, ড. ও'টুল ও ড. ভাটনাগর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে। লেখকরা উল্লেখ করেছেন যে কার্নোসিন ও তার পূর্বগামী বিটা‑অ্যালানিন পারফরম্যান্স সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়, তবে কার্নোসিনের কার্যকারিতা "কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি"।
গবেষণার পদ্ধতি
- ডিজাইন: প্লেসবো‑কন্ট্রোলড র্যান্ডমাইজড ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল
- অংশগ্রহণকারী: ২৯৯ জন
- ডোজ: দিনে ২ গ্রাম কার্নোসিন (ক্যাপসুল আকারে)
- সময়কাল: মোট ১২ সপ্তাহ; বেসলাইন, ৬ সপ্তাহ এবং ১২ সপ্তাহে মূল্যায়ন করা হয়েছে
- পরীক্ষা: হ্যান্ড‑গ্রিপ শক্তি, দু’পাশের ক্যালফ রেইজ (সর্বোচ্চ পুনরাবৃত্তি পর্যন্ত), ২ মিনিটের স্টেপ টেস্ট এবং গেট (গেইট) গতি
- অতিরিক্ত: প্রতিটি ভিজিটে রক্ত ও মূত্র নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে
গবেষকরা প্রতিটি ফিজিক্যাল ফাংশনের জন্য বেসলাইন থেকে আপেক্ষিক এবং শতাংশ পরিবর্তন হিসাব করে কার্নোসিন গ্রুপের ফলাফলকে প্লেসবো গ্রুপের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
প্রধান ফলাফল: কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি
সামগ্রিকভাবে, টেস্টগুলোতে কার্নোসিন প্লেসবোর তুলনায় কোনো উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেখাতে পারেনি (p < 0.05)। শুধুমাত্র নিচে উল্লেখিত দুইটি সাব‑গ্রুপে সীমিত পার্থক্য দেখা গিয়েছে; গ্রিপ শক্তি, গেট গতি কিংবা মোট স্টেপ টেস্ট, ক্যালফ রেইজে কোনো সামগ্রিক লাভ প্রকাশিত হয়নি।
যদি আপনি "কার্নোসিন সবাইকে সহনশীলতা বাড়াবে" এমন স্পষ্ট ফল খুঁজছিলেন, তবে এই ট্রায়াল তা সরবরাহ করে না।
দুটি সম্ভাব্য সাব‑গ্রুপে সংকেত
- ৪০ বছরের নিচের অংশগ্রহণকারীদের ক্যালফ রেইজ (৬ সপ্তাহে)। এই গ্রুপে কার্নোসিন ব্যবহারকারীরা প্লেসবো ব্যবহারকারীদের তুলনায় বেশি পুনরাবৃত্তি সম্পন্ন করেছে (p = 0.018)।
- ৪০ বছর ও তার ঊর্ধ্বের পুরুষদের স্টেপ টেস্ট (১২ সপ্তাহে)। এই গোষ্ঠীর কার্নোসিন গ্রুপ ২ মিনিটের স্টেপ টেস্টে বেশি স্টেপ সম্পন্ন করেছে (p = 0.010)। তবে সব পুরুষের মধ্যে এই পার্থক্য কেবল একটি প্রবণতা (p = 0.06) হিসেবে রয়ে গেছে।
লেখকরা উপসংহার দেন যে সম্ভাব্য সুবিধা মূলত পুরুষ এবং নির্দিষ্ট বয়স গোষ্ঠীতে সীমাবদ্ধ, এবং কার্নোসিন "সংক্ষিপ্ত‑মেয়াদী পুনরাবৃত্তি ব্যায়ামে উপকারী হতে পারে"।
সতর্কতার সঙ্গে এই সংকেতগুলো ব্যাখ্যা করা দরকার
- সাব‑গ্রুপ বিশ্লেষণ দুর্বল। বয়স ও লিঙ্গ ভিত্তিক ভাগে বহু তুলনা করা হয়েছে; এ ধরনের ভাগে কাকতালীয়ভাবে কিছু p‑value ০.০৫ের নিচে নেমে আসতে পারে। অ্যাবস্ট্র্যাক্টে মাল্টিপল টেস্টিংয়ের জন্য কোনো সংশোধন উল্লেখ নেই।
- প্যাটার্ন সঙ্গতিপূর্ণ নয়। একটি সংকেত ৬ সপ্তাহে তরুণদের ক্যালফ রেইজে, অন্যটি ১২ সপ্তাহে বয়স্ক পুরুষদের স্টেপ টেস্টে দেখা গেছে। সময়, টেস্ট বা গ্রুপের মধ্যে ধারাবাহিকতা নেই।
- প্রবণতা = আবিষ্কার নয়। সব পুরুষের মধ্যে p = 0.06 ফলাফল গবেষণার নিজস্ব থ্রেশহোল্ড পূরণ করে না।
- উপসংহার ডেটার চেয়ে বেশি। "নির্দিষ্ট গোষ্ঠীতে পেশী ও কার্ডিও‑রেসপিরেটরি সহনশীলতা বাড়ায়" বলা, অধিকাংশ শূন্য ফলের সঙ্গে দুটিতে সীমিত হিটের ওপর অতিরিক্ত দাবি।
- অ্যাবস্ট্র্যাক্টে গুরুত্বপূর্ণ বিশদ অনুপস্থিত। অংশগ্রহণকারীর ডেমোগ্রাফিক্স, ইফেক্ট সাইজ, অনুগমন হার বা সাব‑গ্রুপ বিশ্লেষণ পূর্বনির্ধারিত ছিল কিনা উল্লেখ না থাকায় সেগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না।
সর্বোত্তম ব্যাখ্যা হল এরা হাইপোথিসিস‑উৎপন্ন সংকেত, প্রমাণ নয়।
কার্নোসিন বনাম বিটা‑অ্যালানিন: সৎ তুলনা
এই গবেষণায় শুধুমাত্র কার্নোসিন পরীক্ষা করা হয়েছে, বিটা‑অ্যালানিন নয়; ফলে দুই সাপ্লিমেন্টের সরাসরি তুলনা করা সম্ভব নয়।
কার্নোসিন গঠিত হয় বিটা‑অ্যালানিন ও হিস্টিডিন থেকে। বিটা‑অ্যালানিন পেশীর কার্নোসিনের হার‑সীমাবদ্ধ নির্মাণ ব্লক হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় স্পোর্টস নিউট্রিশনে অধিক প্রচলিত। সাধারণভাবে, বিটা‑অ্যালানিনের ডোজ কয়েক গ্রাম‑প্রতি‑দিন, প্রায়শই ছোট ছোট ভাগে নেওয়া হয়; একবারে বড় ডোজে টিংলিং (পারেস্টেসিয়া) ঘটতে পারে। বিটা‑অ্যালানিনের ওপর গবেষণা বৃহৎ এবং প্রতিষ্ঠিত, এবং এটি এক‑দুই মিনিটের উচ্চ‑তীব্রতা ব্যায়ামে মাঝারি সুবিধা দেখায়।
এই ট্রায়াল কেবল দিনে ২ গ্রাম ওরাল কার্নোসিনের একটি বড়, প্লেসবো‑কন্ট্রোলড টেস্ট উপস্থাপন করেছে, এবং ফলাফল প্রায় শূন্য। এটি অর্থ এই নয় যে কার্নোসিন অপ্রয়োজনীয়, তবে বিটা‑অ্যালানিনের তুলনায় নতুন কোনো শক্তিশালী যুক্তি তৈরি করে না।
ব্যবহারিক টিপস
- ডোজ: ট্রায়ালে শুধুমাত্র ২ গ্রাম/দিন কার্নোসিন পরীক্ষা করা হয়েছে; অন্য ডোজের ফলাফল সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই।
- সময়সূচি: অ্যাবস্ট্র্যাক্টে সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার সময় বা ওয়ার্কআউটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই; তাই প্রমাণভিত্তিক কোনো সময়সূচি নির্ধারণ করা কঠিন।
- অবধি: ক্যালফ‑রেইজে সম্ভাব্য সুবিধা প্রায় ৬ সপ্তাহে, স্টেপ টেস্টে ১২ সপ্তাহে দেখা গিয়েছিল, তবে সেগুলোকে নির্ভরযোগ্য সময়সীমা হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।
- কাদের জন্য বিবেচনাযোগ্য: যারা সংক্ষিপ্ত‑মেয়াদী পুনরাবৃত্তি ব্যায়ামে সম্ভাব্য সুবিধা সম্পর্কে কৌতূহলপূর্ণ, এবং বিশেষত ৪০ বছরের নিচের ব্যক্তিগণ (ক্যালফ রেইজ) অথবা ৪০ বছরের ঊর্ধ্বের পুরুষ (স্টেপ টেস্ট) – এ গোষ্ঠীর কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত থাকতে পারে।
- গ্রিপ শক্তি বা সর্বোচ্চ শক্তি বাড়াতে চান এমন কেউ: ট্রায়ালে কোনো সুবিধা দেখা যায়নি।
- গেট গতি উন্নত করতে চান এমন কেউ: এখানে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।
- নারী: লেখকগুলো উল্লেখ করেন সুবিধা প্রধানত পুরুষদের মধ্যে, তাই নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দাবি সমর্থনযোগ্য নয়।
- বাজেট সীমিত এবং প্রশিক্ষণ, ঘুম, প্রোটিনে ইতিমধ্যে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন – সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন নাও হতে পারে।
গর্ভবতী, কোনো স্বাস্থ্য সমস্যাযুক্ত বা ওষুধ সেবনকারী যেকোনো ব্যক্তি সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেন। এই বিষয়ে গবেষণার অ্যাবস্ট্র্যাক্টে কোনো উল্লেখ নেই।
সমাপনী কথা
দৈনিক ২ গ্রাম কার্নোসিন দিয়ে ২৯৯ জনের র্যান্ডমাইজড ট্রায়াল গ্রিপ শক্তি, ক্যালফ রেইজ, স্টেপ টেস্ট এবং গেট গতি কোন ক্ষেত্রেই সামগ্রিক সুবিধা দেখাতে পারে না। শুধুমাত্র ৪০ বছরের নিচের গোষ্ঠীর ক্যালফ রেইজ এবং ৪০ বছরের ঊর্ধ্বের পুরুষদের স্টেপ টেস্টে সীমিত ইতিবাচক ফল পাওয়া গিয়েছে। এই সাব‑গ্রুপের ফলাফলই দৃষ্টিনন্দন, তবে পুনরায় যাচাই না করা পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সত্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। লেখকরা কোনো স্বার্থসংঘাতের ঘোষণা দেননি।